ভয় এবং ব্যথা দূর করে সফলভাবে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তাড়াহুড়ো না করে কিছু নির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করা উচিত। নিচে ধাপে ধাপে কিছু পরীক্ষিত কৌশল আলোচনা করা হলো:
১. সেনসেট ফোকাস বা চাপমুক্ত স্পর্শ (Sensate Focus Technique) শুরুতেই অনুপ্রবেশের (Penetration) চেষ্টা না করে, প্রথম কয়েকদিন একে অপরের শরীর আবিষ্কার করুন। একে 'সেনসেট ফোকাস' বলা হয়। লক্ষ্য থাকবে কেবল স্পর্শের মাধ্যমে আনন্দ দেওয়া, মূল মিলন নয়। যখন স্ত্রী বুঝতে পারবেন যে আজ সহবাসের কোনো চাপ নেই, তখন তার শরীর আপনাআপনিই শিথিল হবে এবং ভয় দূর হয়ে যাবে।
২. শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ ও পেশি শিথিলকরণ (Breathing & Relaxation) ভয় পেলে নারীদের যোনির পেশি সংকুচিত হয়ে যায়। মিলনের ঠিক আগ মুহূর্তে স্ত্রীকে দীর্ঘ শ্বাস নিতে এবং ছাড়তে বলুন। যখন তিনি ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়বেন, তখন তার শরীরের নিচের অংশের পেশিগুলো শিথিল (Relax) হয়ে আসবে। ঠিক এই শিথিল হওয়ার মুহূর্তেই খুব ধীরে ধীরে চেষ্টা শুরু করতে হবে।
৩. ধাপে ধাপে অভ্যস্ত করা (Gradual Desensitization) সরাসরি মিলনে না গিয়ে, ফোরপ্লের সময় স্বামী খুব আলতোভাবে নিজের আঙুল ব্যবহার করে স্ত্রীকে স্পর্শে অভ্যস্ত করতে পারেন (অবশ্যই লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করে)। প্রথমে বাইরের অংশে এবং পরে খুব ধীরে ধীরে ভেতরের দিকে। এতে স্ত্রীর শরীর বুঝতে পারে যে এই স্পর্শে ভয়ের কিছু নেই, ফলে মূল মিলনের সময় ব্যথা অনেক কম হয়।
৪. সঠিক পজিশন নির্বাচন (Comfortable Positions) শুরুতে সব পজিশন আরামদায়ক হয় না। ব্যথা এড়াতে নিচের পজিশনগুলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর:
ওম্যান-অন-টপ (Woman-on-top): এই পজিশনে স্ত্রী স্বামীর উপরে থাকেন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এক্ষেত্রে গতি এবং কতটা গভীরে যাবে (Depth of penetration) তার পুরো নিয়ন্ত্রণ স্ত্রীর হাতে থাকে। ব্যথা লাগলে তিনি নিজেই থেমে যেতে পারেন, ফলে ভয় কাজ করে না।
স্পুনিং পজিশন (Spooning / Side-by-side): স্বামী-স্ত্রী দুজনেই একপাশে কাত হয়ে শুয়ে এই পজিশন ট্রাই করতে পারেন। এতে খুব বেশি গভীরে পেনিট্রেশন হয় না বলে ব্যথা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকেই না। তাছাড়া এটি দুজনের জন্যই খুব আরামদায়ক এবং এতে শারীরিক নৈকট্য বেশি থাকে।
বালিশের ব্যবহার (Missionary with a Pillow): সাধারণ মিশনারি পজিশনে (স্ত্রী নিচে, স্বামী উপরে) স্ত্রীর কোমরের নিচে একটি নরম বালিশ দিয়ে নিতে পারেন। এতে অ্যাঙ্গেল বা কোণ সঠিক হয়, যা ঘর্ষণ কমায় এবং ব্যথা এড়াতে সাহায্য করে।
৫. 'স্টপ-স্টার্ট' মেথড (থামা এবং এগোনো) এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ম। যখন স্বামী ধীরে ধীরে অগ্রসর হবেন, যদি স্ত্রী একটুও ব্যথা অনুভব করেন, তবে সাথে সাথে থেমে যেতে হবে। কিন্তু বের করে আনা যাবে না, ওই অবস্থাতেই স্থির থাকতে হবে। এসময় স্ত্রীকে গভীর শ্বাস নিতে দিন। কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের মধ্যে ব্যথা কমে গেলে আবার খুব ধীরে একটু এগোতে হবে। এভাবে একটু এগোতে হবে এবং ব্যথা লাগলে থামতে হবে।
৬. যোগাযোগের অভাব না রাখা (Continuous Communication) পুরো সময়টাতে একে অপরের সাথে কথা বলুন। "ব্যথা লাগছে কি?", "আমি কি থামব?", "এভাবে কি আরাম লাগছে?"—এই প্রশ্নগুলো করুন। স্ত্রীর মুখের অভিব্যক্তির দিকে খেয়াল রাখুন। যখন তিনি দেখবেন তার প্রতিটি কষ্টের মূল্যায়ন আপনি করছেন, তখন তার ভয় এমনিতেই অর্ধেক কমে যাবে।
মন্তব্য
প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করুন